রবিবার, ১২ Jul ২০২৬, ০৭:৫৫ অপরাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক, নগরকন্ঠ.কম : ‘প্রথম যখন করোনাভাইরাসের নমুনা সংগ্রহের কথা কর্তৃপক্ষ আমাকে জানাল, প্রথমে একটু ঘাবড়ে গিয়েছিলাম। বারবার ছেলে দুটো, বাবা-মা-স্ত্রীর মুখ ভেসে আসছিল। তৎক্ষণিক মাথায় আসলো, সংকট মুহূর্তে কাজ করার সুযোগ সবার হয় না। আমার ভাগ্য, এমন দায়িত্ব পেয়েছি। সঙ্গে সঙ্গে রাজি হয়ে যাই। কাজ শুরু করি। এরপর আর পিছনে তাকাইনি। ’
এক নিঃশ্বাসে কথাগুলো বলে গেলেন কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট সামিউল বাশির। তরুণ এই টেকনোলজিস্ট একাই সদর উপজেলায় আক্রান্ত বা সন্দেহভাজন ব্যক্তি নমুনা সংগ্রহ করছেন। এ পর্যন্ত ১২৩ জনের নমুনার মধ্যে পাঁচজনের পজেটিভ এসেছে।
তিনি বলেন, আমি নাগেশ্বরী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত ছিলাম। গত ২৯ মার্চ প্রথম নমুনা সংগ্রহ শুরু করি। এর মধ্যে ঊর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ জেলা সদরে নমুনা সংগ্রহের আদেশ দিলে সানন্দে রাজি হই। সন্দেহভাজনদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রতিদিন গড়ে দশটি করে নমুনা সংগ্রহ করছি।
মো. সামিউল বাশির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে হেলথ টেকনোলজি বিভাগে বিএসসি লেখাপড়া শেষ করে ২০০৮ সালের ১৬ অক্টোবর মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট (ল্যাব.) পদে চাকুরিতে যোগদান করেন। বর্তমান কুড়িগ্রাম সদর উপজেলায় কর্মরত রয়েছেন। তার পিতা মো. মতিয়ার রহমান। মা মোছা. জিন্নাতুন নেছা, স্ত্রী মোছা. আফরোজা খাতুন, দুই সন্তান আলিফ আবরার ফাইয়াজ ছয় বছর, অর্ক অনির্বান লাম ১ বছর।
তিনি আরও বলেন, আমরা করোনার থেকেও ঝুকিপূর্ণ জীবাণু নিয়ে সবসময়ই কাজ করি, এইডস, হেপাটাইটিস সহ সকল সংক্রামক রোগ আমরাই পরীক্ষা করি, যা মারাত্মক ঝুকিপূর্ণ। তবে বায়োসেফটি মেনে কাজ করলে নিরাপদ থাকা সম্ভব। সব সময় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করলেও আমাদের পেশার মানোন্নোয়নে কর্তৃপক্ষ বরাবর উদাসীনতার পরিচয় দিয়েছে।
করোনা নিয়ন্ত্রণে পরীক্ষার কোন বিকল্প নেই, কিন্তু নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষার জন্য মেডিক্যাল টেকনোলজিস্টদের সংকটের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, পর্যাপ্ত টেকনোলজিষ্ট ছাড়া করোনা মোকাবিলা কষ্টসাধ্য হবে।
নমুনা সংগ্রহের ব্যাপারে তার ও পরিবারের সদস্যদের প্রতিক্রিয়ার কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন, বাবা-মা, স্ত্রী-সন্তানরা সব সময় চিন্তায় থাকে। গত ২৯ তারিখ থেকে এখন পর্যন্ত বাড়িতে থাকা হচ্ছে না। সন্তানরা বাবার জন্য কান্নাকাটি করে, সন্তানদের ছেড়ে বাড়ির বাইরে থাকতে কষ্ট হয়। এই কাজ করতে পেরে আমি গর্বিত। শুধু আমি নই, আমাদের টিমের সকল সদস্য কাজটি ঝুকিপূর্ণ জেনেও সবাই খুব আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছি। তবে আমাদের অনুপ্রেরণা দিচ্ছেন সিভিল সার্জেন স্যার ডা. হাবিবুর রহমান ও সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নজরুল ইসলাম।
এ প্রসঙ্গে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নজরুল ইসলাম সামিউল বাশিরসহ নমুনা সংগ্রহের পুরো টিমের কাজের প্রশংসা করেন।
সিভিল সার্জন ডা. হাবিবুর রহমান জানান, সে দায়িত্ব নিয়ে কাজ করছে। টিমের অন্যান্য সদস্যরা মিলেই করছে। তবে সে সম্মুখে।
নগরকন্ঠ.কম/এআর